Home Specialities Cardiology
JCI & NABH Accredited · Cardiology

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসায় আপনার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী

হৃদরোগ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে অধিকাংশ হৃদরোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  আমাদের সম্পর্কে

কেন হৃদরোগ চিকিৎসায় ডিসান হাসপাতালকে বেছে নেবেন?

ডিসান হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয়ে হৃদরোগের প্রতিরোধ, নির্ণয়, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান করা হয়।

সাধারণ হৃদরোগ থেকে শুরু করে জটিল করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, জন্মগত হৃদরোগ এবং ভালভজনিত সমস্যার জন্য রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।

আমাদের কার্ডিওলজি বিভাগে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ—সবকিছুই একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের লক্ষ্য শুধু রোগের চিকিৎসা নয়; বরং প্রতিটি রোগীর জীবনমান উন্নত করা এবং ভবিষ্যতের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করা।

পরামর্শ নিন
JCI & NABH

আন্তর্জাতিক ডুয়াল অ্যাক্রেডিটেশন

আধুনিক ক্যাথল্যাব

অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং সুবিধা

২৪×৭

জরুরি হৃদরোগ সেবা ও কার্ডিয়াক আইসিইউ

End-to-End

রোগ নির্ণয় থেকে পুনর্বাসন পর্যন্ত সম্পূর্ণ যত্ন

  সতর্ক সংকেত

হৃদযন্ত্রের সুস্থতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হৃদযন্ত্র আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয়। হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। অনেক সময় হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ খুবই সাধারণ মনে হয়। তাই নিচের উপসর্গগুলো অবহেলা করা উচিত নয়—

বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
হাঁটলে বা সিঁড়ি ভাঙলে শ্বাসকষ্ট
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
বুক ধড়ফড় করা
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিসের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি

এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  আমাদের চিকিৎসার পরিধি

আমরা যেসব হৃদরোগের চিকিৎসা করি

ডিসান হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়, যেমন—

করোনারি আর্টারি ডিজিজ (Coronary Artery Disease)
হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack)
এনজাইনা (Angina)
উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ
হার্ট ফেইলিউর
হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (Arrhythmia)
ভালভজনিত হৃদরোগ
জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Disease)
কার্ডিওমায়োপ্যাথি
পেরিকার্ডিয়াল রোগ
অ্যাওর্টার বিভিন্ন সমস্যা
  বিশেষায়িত সেবা

আমাদের বিশেষায়িত সেবা

ডিসান হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

01

প্রতিরোধমূলক হৃদরোগ সেবা

যাদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে অথবা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা কিংবা ধূমপানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত হৃদরোগ মূল্যায়ন এবং ঝুঁকি নির্ণয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

02

নন-ইনভেসিভ কার্ডিওলজি

অস্ত্রোপচার ছাড়াই হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ইসিজি (ECG)
  • ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echocardiography)
  • ট্রেডমিল টেস্ট (TMT)
  • হোল্টার মনিটরিং
  • অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেসার মনিটরিং
  • স্ট্রেস ইকো
  • ডপলার স্টাডি
03

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি

রক্তনালীর ব্লক শনাক্ত এবং চিকিৎসার জন্য আধুনিক ক্যাথল্যাব সুবিধার মাধ্যমে বিভিন্ন ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি পরিচালিত হয়। প্রয়োজনে করা হতে পারে—

  • করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি
  • করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি
  • স্টেন্ট প্রতিস্থাপন
  • IVUS (Intravascular Ultrasound)
  • FFR মূল্যায়ন
  • OCT-ভিত্তিক রক্তনালী মূল্যায়ন (যেখানে প্রযোজ্য)
04

রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা

প্রতিটি রোগীর শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন, বয়স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। প্রয়োজনে কার্ডিওলজিস্ট, কার্ডিয়াক সার্জন, অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।

  রোগ নির্ণয়

আধুনিক হৃদরোগ নির্ণয় সুবিধা

হৃদরোগের সফল চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো সঠিক ও সময়মতো রোগ নির্ণয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা, রক্তনালীর অবস্থা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা হয়। রোগীর উপসর্গ, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

01

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG)

ইসিজি হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মূল্যায়নের একটি সহজ, দ্রুত এবং বহুল ব্যবহৃত পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা যায়—

  • হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (Arrhythmia)
  • হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
  • হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহের সমস্যা
  • হৃদপেশির কিছু পরিবর্তন
02

ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echocardiography)

ইকোকার্ডিওগ্রাফি একটি আল্ট্রাসাউন্ডভিত্তিক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের গঠন, ভালভের কার্যকারিতা এবং রক্তপ্রবাহ মূল্যায়ন করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়—

  • হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা (Ejection Fraction)
  • হার্টের ভালভের অবস্থা
  • জন্মগত হৃদরোগ
  • হৃদপেশির কার্যকারিতা
  • হার্ট ফেইলিউরের মূল্যায়ন
03

ট্রেডমিল টেস্ট (TMT)

হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় হৃদযন্ত্র কীভাবে কাজ করছে তা মূল্যায়নের জন্য ট্রেডমিল টেস্ট করা হয়। এই পরীক্ষা বিশেষভাবে উপকারী—

  • বুকের ব্যথার কারণ মূল্যায়নে
  • করোনারি আর্টারি ডিজিজের সম্ভাবনা নির্ণয়ে
  • ব্যায়াম সহ্যক্ষমতা মূল্যায়নে
04

হোল্টার মনিটরিং

সব ধরনের হৃদস্পন্দনের সমস্যা সাধারণ ইসিজিতে ধরা পড়ে না। সেক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য হোল্টার মনিটরিং করা হয়। এটি বিশেষভাবে কার্যকর—

  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে
  • চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়নে
05

অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেসার মনিটরিং (ABPM)

২৪ ঘণ্টা ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে—

  • দিনের বিভিন্ন সময়ের রক্তচাপ জানা যায়
  • রাতের রক্তচাপ মূল্যায়ন করা যায়
  • ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা যায়
  ক্যাথল্যাব

আধুনিক ক্যাথল্যাব (Cath Lab)

ডিসান হাসপাতালের আধুনিক ক্যাথল্যাবে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হৃদযন্ত্রের রক্তনালী পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। ক্যাথল্যাবে বিশেষ ক্যাথেটার এবং উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ মূল্যায়ন করা হয়।

01

করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি

করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি এমন একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলোর অবস্থা দেখা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধমনীর কোথায় ব্লক রয়েছে, ব্লকের পরিমাণ এবং পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা জানা যায়। অ্যাঞ্জিওগ্রাফির ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন ওষুধ, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি অথবা বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন আছে কি না।

02

করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি

হৃদযন্ত্রের ধমনীতে ব্লক তৈরি হলে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা যায়। এই পদ্ধতিতে একটি বিশেষ বেলুনের সাহায্যে ব্লকযুক্ত অংশ প্রসারিত করা হয় এবং প্রয়োজনে সেখানে একটি স্টেন্ট স্থাপন করা হয়, যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এটি জরুরি হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

03

স্টেন্ট প্রতিস্থাপন

ধমনীর সংকুচিত বা ব্লক হওয়া অংশ খোলা রাখতে স্টেন্ট ব্যবহার করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত ধরনের স্টেন্ট নির্বাচন করেন।

04

ইনট্রাভাসকুলার আল্ট্রাসাউন্ড (IVUS)

কিছু ক্ষেত্রে শুধু অ্যাঞ্জিওগ্রাফি যথেষ্ট তথ্য দেয় না। IVUS প্রযুক্তির মাধ্যমে ধমনীর ভেতরের অংশ আরও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়, ফলে—

  • ব্লকের প্রকৃতি বোঝা যায়
  • স্টেন্টের সঠিক আকার নির্বাচন করা যায়
  • চিকিৎসার নির্ভুলতা বৃদ্ধি পায়
05

ফ্র্যাকশনাল ফ্লো রিজার্ভ (FFR)

FFR একটি বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ধমনীর ব্লকটি বাস্তবে রক্তপ্রবাহে কতটা প্রভাব ফেলছে তা নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় স্টেন্ট প্রতিস্থাপন এড়ানো এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নির্বাচন সহজ হয়।

  হৃদস্পন্দনের চিকিৎসা

হার্ট রিদম বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা

হৃদযন্ত্রের স্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীর বা অনিয়মিত হয়ে গেলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন—

এই ধরনের সমস্যার জন্য উন্নত মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা উপলব্ধ রয়েছে। যাদের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ধীর হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হতে পারে। পেসমেকার হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং অনেক রোগীর জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয় — রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট, প্রশিক্ষিত নার্সিং টিম এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

  কার্ডিয়াক সার্জারি

কার্ডিয়াক সার্জারি

কিছু হৃদরোগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধ বা ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। যখন হৃদযন্ত্রের রক্তনালী, হার্টের ভালভ অথবা জন্মগত ত্রুটির কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তখন অভিজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জনের তত্ত্বাবধানে সার্জারির পরিকল্পনা করা হয়। ডিসান হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন থিয়েটার এবং দক্ষ বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বয়ে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

01

করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি (CABG)

করোনারি ধমনীতে একাধিক বা জটিল ব্লক থাকলে অনেক ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফট (CABG) সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এই অস্ত্রোপচারে শরীরের অন্য অংশের সুস্থ রক্তনালী ব্যবহার করে নতুন রক্তপ্রবাহের পথ তৈরি করা হয়, যাতে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসক রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেন বাইপাস সার্জারি সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা হবে কি না।

02

হার্ট ভালভের চিকিৎসা

হৃদযন্ত্রের ভালভ সংকুচিত হয়ে যাওয়া (Stenosis) অথবা ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়ার (Regurgitation) কারণে রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী—

  • হার্ট ভালভ রিপেয়ার (Valve Repair)
  • হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন (Valve Replacement)

করা হতে পারে। চিকিৎসার ধরন রোগীর বয়স, ভালভের অবস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়।

03

জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা

কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই হৃদযন্ত্রের গঠনগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যার চিকিৎসা অস্ত্রোপচার অথবা ক্যাথেটারভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে সফলভাবে করা সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।

04

মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি

নির্বাচিত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বড় কাটার পরিবর্তে ছোট ছিদ্র বা ছোট চেরা দিয়ে কার্ডিয়াক সার্জারি করা সম্ভব। এই ধরনের সার্জারির সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • তুলনামূলক ছোট ক্ষত
  • কম রক্তক্ষরণ
  • দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা
  • হাসপাতালে কম সময় অবস্থান
  • ছোট দাগ

সব রোগীর জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। রোগীর অবস্থা মূল্যায়নের পর চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন এটি করা সম্ভব হবে কি না।

05

ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TAVI/TAVR)

যেসব রোগীর ওপেন হার্ট সার্জারির ঝুঁকি বেশি, নির্বাচিত ক্ষেত্রে তাদের জন্য TAVI (Transcatheter Aortic Valve Implantation) বা TAVR (Transcatheter Aortic Valve Replacement) একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ক্যাথেটারের মাধ্যমে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়, ফলে বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

06

অ্যাওর্টিক রোগের চিকিৎসা

অ্যাওর্টা শরীরের সবচেয়ে বড় ধমনী। অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, অ্যাওর্টিক ডিসেকশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য উন্নত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়।

  জরুরি সেবা

জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসা (Cardiac Emergency)

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বাম হাত বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া কিংবা হঠাৎ অস্বস্তি অনুভূত হলে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত। ডিসান হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হৃদরোগজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে যত দ্রুত রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা যায়, হৃদপেশির ক্ষতি তত কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে — রোগীর অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক ওষুধ, জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি অথবা অন্যান্য উপযুক্ত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।

কার্ডিয়াক আইসিইউ (Cardiac ICU)

জটিল হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক অথবা অস্ত্রোপচারের পর কিছু রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে। ডিসান হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিইউ-তে রয়েছে—

  পুনর্বাসন

কার্ডিয়াক পুনর্বাসন (Cardiac Rehabilitation)

চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর সুস্থ জীবনে ফিরে আসার জন্য কার্ডিয়াক পুনর্বাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম
পুষ্টিবিদের খাদ্য পরিকল্পনা
জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কিত পরামর্শ
ধূমপান ত্যাগে সহায়তা
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত ফলো-আপ
  প্রতিরোধ

হৃদরোগ প্রতিরোধে আমাদের পরামর্শ

সব হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।

01

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

  • কম লবণ ও কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল খান।
  • অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • পরিমিত পরিমাণে মাছ, ডাল ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন গ্রহণ করুন।
02

নিয়মিত ব্যায়াম

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক।

03

ধূমপান ও তামাক বর্জন

ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য ধূমপান এবং সব ধরনের তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা উচিত।

04

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং ওজন নিয়মিত পরীক্ষা করলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব।

05

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

  কখন পরামর্শ নেবেন

কখন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

হৃদরোগের অনেক লক্ষণই প্রথম দিকে তেমন গুরুতর মনে নাও হতে পারে। কিন্তু সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

জরুরি পরিস্থিতি — তীব্র বুকব্যথা, শ্বাস নিতে গুরুতর অসুবিধা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অত্যন্ত দ্রুত বা খুব ধীর হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব এবং বুকের অস্বস্তি — এর যেকোনো একটি দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যান।

  সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

না। বুকে ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে ব্যথা যদি তীব্র হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয়, অথবা শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম বা বাম হাত, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

অ্যাঞ্জিওগ্রাফি হলো হৃদযন্ত্রের রক্তনালী পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ব্লক আছে কি না তা নির্ণয় করা হয়। অন্যদিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হলো ব্লকযুক্ত ধমনী খুলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করার একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রয়োজনে এতে স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।

অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত ফলো-আপ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যেতে পারেন।

যথাযথ চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যতে পুনরায় হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে দূর করা যায় না। তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিচের ব্যক্তিদের নিয়মিত হৃদরোগ মূল্যায়ন করা উপকারী হতে পারে—

  • ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী
  • উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি
  • উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে
  • ধূমপায়ী
  • স্থূলতা রয়েছে
  • পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে

চিকিৎসক ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।

নিচের উপসর্গগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যান—

  • তীব্র বুকব্যথা
  • শ্বাস নিতে গুরুতর অসুবিধা
  • হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • অত্যন্ত দ্রুত বা খুব ধীর হৃদস্পন্দন
  • অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব এবং বুকের অস্বস্তি
  আমাদের প্রতিশ্রুতি

আজই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন

ডিসান হাসপাতাল হৃদরোগের প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি হৃদরোগের উপসর্গ অনুভব করেন অথবা নিয়মিত হৃদরোগ পরীক্ষা করাতে চান, তাহলে দেরি না করে ডিসান হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই সুস্থ হৃদয়ের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আজই বিনামূল্যে চিকিৎসা মতামত নিন

আপনার রিপোর্ট WhatsApp-এ পাঠান — আমাদের কার্ডিওলজি টিম দ্রুত বিশেষজ্ঞ মতামত ও চিকিৎসার আনুমানিক খরচ জানিয়ে দেবে।

FIND US

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করুন — আমাদের বাংলা-ভাষী দল সর্বদা প্রস্তুত

Desun Hospital

Kolkata

Desun More, 720, Eastern Metropolitan Bypass, Golpark, Sector I, Kasba, Kolkata – 700107, West Bengal, India

Call Now

Desun Hospital

Siliguri

Beside Medical College, Siliguri – 734012, West Bengal, India

Call Now

Follow Us