এমার্জেন্সি নম্বর : 90 5171 5171 / 8334031345
 

আজকের হেলথ টিপ
18 October, 2017

 

ডিসান
কর্পোরেট

ঝাঁপিয়ে একটা দূর্দান্ত ক্যাচ নিল সৌভিক । উঠে দাঁড়াল আর তারপরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল !

 

সৌভিক ওইসময় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, কিন্তু কোন কারণ বোঝা যাচ্ছিল না !

18 বছরের কিশোর সৌভিক মুখার্জি ক্রিকেট ম্যাচে লাফিয়ে ক্যাচ ধরতে গিয়ে ডানহাতের নীচে (বগল) বিষধর সাপের কামড় খায়। সঙ্গে সঙ্গে ডান হাতের বাহু ফুলে ওঠে ,তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে যন্ত্রণা । দ্রুত তাকে স্থানীয় হসপিটালে ভর্তি করা হয় কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল না ।সেখানে দু'চারটে অ্যানালজেসিক, অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ও স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয়নি ভবেশকে । অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে , অন্য কোনও পথ না পেয়ে ভবেশের পরিবার তাকে কলকাতার এক মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করে । সেখানেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে খুব একটা হেরফের ঘটেনি , এদিকে ডান হাতের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে । অবশেষে এক প্রতিবেশির উপদেশে রাত 2টোয় ডিসানে নিয়ে আসা হয় সৌভিককে। প্লাস্টিক সার্জেনের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয় । রাত 2টো হোক বা 3টে স্পেশালিস্ট ডাক্তাররা তৎক্ষনাৎ রোগীর কাছে উপস্থিত হন , এটাই ডিসান হসপিটালের বিশেষত্ব । সাপে কামড়ানোর 36 ঘন্টা পরে সৌভিককে ডিসানে নিয়ে আসা হয় । তবে ইতিমধ্যেই বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ।

বিষাক্ত সাপে কামড়ে আক্রান্ত আঠারো বছরের কিশোরের প্রাণ বাঁচাল ডিসান

আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত কিশোরকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিল ডিসান বিষধর সাপের কামড়ে প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিল সৌভিক । দ্রুত ডিসানের এমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয় তাকে । যখন ডিসানে নিয়ে আসা হয় ওই কীশোরকে, তখন বগল থেকে সারা ডানহাত ফুলে উঠেছিল , বরফের মত ঠান্ডা ও কালো হয়ে গেছিল, হাতে কোনও পালস পাওয়া যাচ্ছিলনা , পুরো অবশ হয়ে গেছিল । সেইসময় সৌভিক প্রায় সজ্ঞাহীন , অল্প অল্প ইউরিনের সঙ্গে প্রচুর পরিমানে রক্ত বের হচ্ছিল। ততক্ষণে শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হয়েগেছে , জ্বরে আক্রান্ত হয় সৌভিক । মুখ ফুলতে শুরু করে । ওইসময় ভবেশের হিমোগ্লোবিন লেবেল নেমে দাঁড়ায় 5 গ্রাম % এ । এমনকি 40 মিনিট পরেও রক্ত জমাট বাঁধেনি ।

ডিসানে ডায়গনোসিস করার পর ডাক্তাররা সাপের কামড় বিষয়ে নিশ্চিত হন

ডিসানে ভর্তি হওয়ার পর জানা যায় তার কিডনি ও মস্তিষ্কে বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে । এমনকি শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে । ডিসানে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয় সৌভিককে । চরম ঝুঁকি নিয়ে দুপুর 12 টায় তাকে ডিসানের OT তে নিয়ে যাওয়া হয় ফ্যাসিওটমি'র জন্য । এটা একটি সার্জিক্যাল প্রসিডিওর , এই প্রসিডিওরে সাধারণত ক্ষতিগ্রস্থ ত্বক বা টিস্যুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে এনে পেশিতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয় । ভবেশের হাত বাঁচাবোর জন্য এই শেষ পন্থা ব্যবহার করা হয় । ভবেশ জেনারেল অ্যানাশথেশিয়া নিতে পারেনি তখন তাকে লোকাল অ্যানাশথেশিয়া দেওয়া হয় । বেশ কয়েকটা ডায়ালিসিস হয় , সেইসময় ভবেশের শরীররে ইউরিন তৈরী হওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । তার ক্রিয়েটিনাইন ও পটাসিয়ামও খুব বেশি ছিল ।
প্রায় এক সপ্তাহ ডিসানের স্পেশালিস্ট ডাক্তারটিমের তত্ত্বাবধানে সৌভিককে রাখা হয় । আস্তে আস্তে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয় । সামান্য হলেও হাত নাড়াতে পারছিল সে । কয়েক সপ্তাহ পর সুস্থ হয়ে উঠলে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ডিসচার্জ করা হয় । ডিসানের দক্ষ প্লাস্টিক সার্জেন এর নির্দেশে সঠিক সময়ের ফ্যাসিওটোমির ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল ওই কিশোর । পরিবারের এক সদস্যকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন ," আমরাতো প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম , ডিসানই আমাদের শেষ ভরসা ছিল । ' গভীর রাতেও ডিসানের এমার্জেন্সি সার্ভিস সত্যি অভিনব ।' ' ডিসানের উন্নত পরিকাঠামো যেমন একই ছাদের তলায় প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সার্ভিস এবং স্পেশালিস্ট ডাক্তারদের মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চিত মৃর্ত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছে সৌভিক ।'

যদি সার্জারী হয় তাহলে প্রাণ সংশয়ের আশংঙ্কা আছে, আর যদি না হয় , তাহলে মৃত্য নিশ্চিত !

পেশেন্টের রেয়ার গ্যাসট্রো প্রসিডিওর করে ওপেন সার্জারি এড়ানো গেল ডিসানে

69 বছরের পার্বতি দেবীর ক্ষেত্রে ডিসানের গ্যাসট্রো বিশেষঙ্গ নতুন প্রজন্মের এন্ডোস্কোপিক হেমোক্লিপ ব্যবহার করে ওপেন সার্জারি ছাড়াই ক্ষত সারিয়ে তোলেন ।

রাত 12 টা :কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে এই অভিনব মেডিক্যাল প্রসিডিওর প্রয়োগ করা হয় ডিসানে । ঝারখন্ডের বাসিন্দা পূর্ণিমা দেবীকে এমন সময় ডিসানে নিয়ে আসা হয় যখন স্থানীয় চিকিৎসাব্যবস্থা প্রায় হার মানতে বসেছিল । সেইসময় তিনি রক্তবমি, তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা এমনকি ব্ল্যাক স্টুল এর শিকার হচ্ছিলেন । সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শে 2015 এর জানুয়ারী মাসে তাকে রক্ত দেওয়া হয় । পুর্ণিমাদেবীর ঠিক কি হয়েছিল তা তখনও অধরা , অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যেতে শুরু করে । সেইসময় এক আত্মীয়র পরামর্শে ডিসানে ভর্তি করা হয় পুর্ণিমাদেবীকে । যদিও ডিসানের চিকিৎসা পরিকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি ও রোগ সারিয়ে তোলার প্রক্তিয়া সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিলেন পার্বতীদেবীর পরিবার ।

ভোর 4টে : অনেকরকম পরীক্ষা, টেস্টের পর তার রোগনির্ণয় করা সম্ভব হয় । জানা যায় হাই ব্লাড প্রেসার , হাই সুগার ,হাইপোথাইরয়েডিজিম ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন তিনি । 4 ঘন্টা’র এন্ডোস্কোপিক প্রসিডিওরের পর পুর্ণিমাদেবীর এন্ডোস্কোপি রিপোর্টে ধড়া পড়ে দেহের ভিতর ডিয়েলাফোই লেসেনে'র জন্য রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে । সহজ ভাষায় তার পেটের ভিতরের দেওয়ালে কালশিটে পড়ে যাওয়ার ফলে রক্তক্ষয় হচ্ছে ।
গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল ব্লিডিংয়ের সঙ্গে জড়িত এই ডিয়েলাফোই লেসেন । পেটের ভিতরের দেওয়ালে কোন দাগছোপ বা কালশিটে এবং ব্লাড ভেসেলের বিচ্ছেদ বা বিভেদ ঘটলে এই জাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগী গ্যাসট্রিক হেমারেজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে । যার ফলে পরবর্তিকালে রক্তক্ষরণ এমনকি মৃর্ত্যু পর্যন্ত হতে পারে ।
পুর্ণিমাদেবীকে যখন ডিসানে ভর্তি করা তখন ইতিমধ্যেই প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটেগেছে । , শরীর থেকে তাজা রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় অবস্থা আরও শঙ্কটজনক হয়ে উঠেছিল , অ্যানিমিয়ায় আক্তান্ত হয়ে পড়েন তিনি । তার ওপর সঠিক চিকিৎসার ঘাটতি ও মেডিক্যাল জটিলতাতো আগে থেকেই ছিল । বাঁচার আশা ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসছিল । ভর্তি হওয়ার প্রথমদিনই তাকে স্পেশালিস্ট ডাক্তারদের তত্বাবধানে রাখা হয় । ব্লিডিং তাড়াতাড়ি বন্ধ করিয়ে , পরবর্তি চিকিৎসা যাতে শুরু হয় যায় তার চেষ্টায় লেগেছিলেন তারা ।
সাধারণত এই ধরণের কেসে পেটের ভিতরের ক্ষত অপারেশানের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা হয় । এই ওপেন সার্জারিকে ল্যাপারোটমি বলা হয় । কিন্তু পূর্ণিমাদেবীর হাইব্লাডপ্রেসার ও ডায়বেটিসের জন্য অপারেশন সম্ভব হচ্ছিল না । অন্যদিকে , যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই ক্ষত সারিয়ে তোলাও প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল কারণ তা নাহলে , পেটের ভিতরের দেওয়ালে ফিনকি দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করতো , যার ফলে আরও বেশি পরিমানে রক্তক্ষয় ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল । আর তার জন্য আবার পুর্ণিমাদেবীকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় ।
কিন্তু ডিসানের দক্ষ গ্যাসট্রো বিশেষজ্ঞ পুর্ণিমাদেবীর ক্ষতটি সারিয়ে তোলার জন্য এন্ডোস্কোপিক হেমোক্লিপ ব্যবহার করেন । প্রবল ঝুঁকি নিয়ে এই প্রসিডিওর করা হয় । ডিওলাফোউ লেসন খুবই জটিল এক মেডিক্যাল সমস্যা যার ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে পারে । এন্ডোস্কোপিক হেমোক্লিপ আসলে একটি মেটালিক ডিভাইস যা এন্ডোস্কোপিক সার্জারীতে পেটের ভিতর কোনরকম অপারেশন ছাড়াই দুটি সারফেসের মুখ বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় ।

সকাল 10 টা : অ্যাডমিশনের 12 ঘন্টা পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে তাকে ICU তে দেওয়া হয় । প্রসিডিওরের 7 দিন পর , ডিসচার্জ হওয়ার আগেরদিন রাতে পেটের ভিতরের সাম্প্রতিক অবস্থা জানার জন্য আরোও একটি এন্ডোস্কোপি করা হয় । তাতে আর কোনও রক্তক্ষরণ ধড়া পড়েনি । প্রেসক্রাইব করা মেডিসিন ও সুষম খাদ্যভ্যাসের পরামর্শ দেওয়া হয় তাকে । সুস্থ হয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরলেন পুর্ণিমাদেবী ।

আরও জানতে
ই-মেল : info@desunhospital.com অথবা, ফোন : (+91) 86977 21124, (+91) 83340 31345, 033-71-222 000 (সোম – শনি, সকাল 10 টা – সন্ধ্যে 6 টা)
IMPORTANT CONTACTS
  • জরুরী ভর্তি
    90 5171 5171

  • অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস
    86977 21124
    83340 31345

  • সার্জারী প্যাকেজ অনুসন্ধানের
    86977 21124
    83340 31345

  • ডাক্তারের সাক্ষাত
    99039 22444
    91633 22074

  • স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অনুসন্ধান চেক আপ
    033 -71 222-000

দ্রুত যোগাযোগ

Attach your Reports
কিছু খুঁজছেন ? এখানে দেখুন